ফ্রীলেন্সিং করার আল্টিমেট নলেজ

যারা জব বা চাকরি নিয়ে হতাশায় ভুগছেন তারা অনলাইন ফ্রীলেন্সিং পেশায় কীভাবে নিজেকে নিয়োজিত করবেন তা নিয়ে কিছু লিখা

অনলাইন ফ্রীলেন্সিং কী? ফ্রীলেন্সিং এ কীভাবে আয় করা যায় ? কী কী কাজ করে ফ্রীলেন্সিং এর সফলতা পাওয়া যায় ? ফ্রীলেন্সিং এর ভবিষ্যৎ কী?ফ্রীলেন্সিং করার জন্য কোথায় এবং কিভাবে করতে হয়?

অনলাইন ফ্রীলেন্সিংঃ

ফ্রীলেন্সিং হচ্ছে মুক্ত পেশা যেখানে আপনি স্বনির্ভর হয়ে বিভিন্ন কোম্পানীর জন্য একটি চুক্তি ভিত্তিতে কাজ করতে পারবেন। যেখানে আপনাকে একটি কোম্পানীর জন্য একটি কর্মচারী হিসাবে কাজ করার কোনও নিয়ম বেধে দেওয়া থাকবেনা। তাহলে আপনি আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী যত কাজ করার দরকার আপনি করতে পারবেন কোনও প্রকার সীমিত নিয়ম ছাড়াই।অনলাইনে যদি আপনি কোনও মার্কেটপ্লেস থেকে কাজ করেন অথবা যদি অনলাইন ভিত্তিক কোনও বায়ার এর কাজ করেন সেইটাই হচ্ছে অনলাইন ফ্রীলেন্সিং।

ফ্রীলেন্সিং এ কীভাবে আয় করা যায়ঃ

ফ্রীলেন্সিং এ কাজ করার জন্য আপনাকে যেকোনো কাজে দক্ষ হতে হবে তারপর সেই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আপনার ফ্রীলেন্সিং করতে হবে। ধরুন আপনি জব করবেন এখন জব টি যদি হয় ব্যাংক এর মার্কেটার হিসেবে তাহলে আপনাকে অবশ্যই বিজনেস স্টাডিস (BBA) নিয়ে পরা লেখা করতে হবে বা মার্কেটিং এ দক্ষ হতে হবে ! ঠিক তেমনি ফ্রীলেন্সিং এ আপনাকে কোন এক বিষয়ের উপর দক্ষ হতে হবে ও আপনাকে সেই বিষয়ের উপরই ফ্রীলেন্সিং করতে হবে।

ফ্রীলেন্সিং এর যেসকল কাজে দক্ষতা অর্জন করলে সর্বোচ্চ ভাল ফল পাওয়া যায় বর্তমানে ঃ

১) ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট
২) ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপমেন্ট
৩) গ্রাফিক্স ডিজাইন
৪) ভিডিও এডিটিং
৫) ডিজিটাল মার্কেটিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং
৬) এপস ডেভেলপমেন্ট।

এই সকল বিষয় গুলো বর্তমানে ফ্রীলেন্সিং এর অনেক জনপ্রিয় বিষয় আয় করার জন্য। যদি আপনি বিষয় গুলো নিয়ে নতুন হয়ে থাকেন তাহলে প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে আগে ভাল করে জেনে নিন ইউটিউব এবং গুগল থেকে। তারপর যে বিষয় গুলো আপনার ভাল লাগবে সেই বিষয় গুলো শেখা শুরু করুন। আপনি যে বিষয় গুলো নিয়ে শিখতে ভাল লাগবে সেই বিষয় টা নিয়ে পুরদমে শেখা শুরু করুন। কারন এক সাথে সব করতে গেলে না পারার সম্ভবনা বেশী। তাই প্রথমে চেষ্টা করুন যেকোনও একটি বিষয় নিয়ে শেখা এবং কাজ করার।

 

ফ্রীলেন্সিং এর ভবিষ্যৎ ঃ

 

 

 

১) বাংলাদেশ হচ্ছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফ্রীলেন্সিং আয়ের দেশ
২) ৬,৫০,০০০ থেকেও বেশী ফ্রীলান্সার বাংলাদেশ থেকে কাজ করছে
৩) বাৎসরিক আয় ১০০ মিলিয়ন ডলার
৪) ওয়েব ডিজাইন এর প্রতি ঘণ্টা রেট $১০ ডলার থেকে $৪০ ডলার বাংলাদেশে। এডভান্স ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর জন্য আরও বেশী
৫) গ্রাফিক্স ডিজাইন এর মাসিক আয় $১,৫০০ ডলার (আপওয়ার্ক এর রিপোর্ট )
৬) বেশীর ভাগ ফ্রীলান্সার বয়স ২৫ এর নিচে।
৭) ২০১৭ সালে ১১,০০০ এর থেকেও বেশী ফ্রীলেন্সার আইসিটি ডিভিশন এর ট্রেইনিং করেছে এবং ৫০০০ ফ্রীলেন্সার থেকে আয় হয়েছে ৩ কোটি টাকারও বেশী ।

বাংলাদেশ থেকে বেকারত্ব দূর করার জন্য সরকার ফ্রীলেন্সিং পেশাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলছে । তাছাড়া বিভিন্ন প্রকার ফ্রি ট্রেইনিং,ল্যাপটপ আরও অনেক সুবিধা দিচ্ছে। বর্তমানে একজন ১ বছরের অভিজ্ঞ নিয়মিত ফ্রীলেন্সার মাসে আয় করছে $১০০০ ডলার থেকে বেশী। যা করার জন্য আপনাকে কোনও প্রকার বিনিয়োগ করার প্রয়োজন হবেনা শুধু মাত্র একজন ফ্রীলেন্সার তার ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট দ্বারা নিজের দক্ষতা দিয়ে ঘরে বসে আয় করছে । যেখানে একজন বেকার যুবক চাকরি খুজতে খুজতে দিন গুনত তারা এখন ফ্রীলেন্সিং করে আয় করছে ৩০ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ টাকা। দিন দিন ফ্রীলেন্সার দের সংখ্যা এভাবে বেড়ে চলছে।

ফ্রীলেন্সিং করার জন্য কোথায় এবং কিভাবে করতে হয়?

ফ্রীলন্সিং এ কাজ করার জন্য আপনাকে যেকোনো মার্কেটপ্লেস বেছে নিতে হবে। মার্কেটপ্লেস হচ্ছে একটি থার্ডপার্টি যেখানে আপনি আপনার একাউন্ট করার পর সেই একাউন্ট দ্বারা বাহিরের ক্লায়েন্ট এর থেকে কাজ পেতে পারেন। ক্লায়েন্ট তাদের কাজের জন্য একজন ফ্রীলেন্সার কে হায়ার করে তাকে কাজ টা করিয়ে নেয় ধার্যকৃত ডলার এর বিনিময়ে। মার্কেটপ্লেস অথবা থার্ডপার্টি ফ্রীলেন্সার এবং ক্লায়েন্ট এর কাছ থেকে সেই ধার্যকৃত ডলার থেকে কিছু কমিশন নেয় এবং আপনার প্রয়োজনে উপার্জিত অর্থ ব্যাংক অথবা অন্য মাধ্যমে উত্তলন করার সুযোগ করে দেয়। দেশের যেকোনো ব্যাংক থেকে আপনি এই টাকা উত্তলন করতে পারবেন।

মার্কেটপ্লেস এর মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে ফাইভার, আপওয়ার্ক,ফ্রীলেন্সার, পিপল-পার-আওয়ার আরও অনেক। এই সকল মার্কেটপ্লেস থেকে একাউন্ট তৈরি করার জন্য আপনাকে কোনও প্রকার পারিশ্রমিক দিতে হবেনা।

আপনি যেকোনো একটি মার্কেটপ্লেস থেকে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারেন কোনও প্রকার বাধা বিপত্তি ছাড়া।

No Comments

Post A Comment

name:

phone:

email:

skype:

address:

Interested course: