একজন ওয়েব ডেভেলপার হওয়ার পিএইচপি ডেভেলপমেন্ট গাইডলাইন – পর্ব ৩

পিএইচপি ডেভেলপমেন্ট নিয়ে যদি আমার আগের আর্টিকেলগুলো ভালোভাবে পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনারা এখন অনিশ্চয়তায় ভুগছেন যে পিএইচপি বুঝার পর পর কিভাবে সেই জ্ঞানকে আমি কাজে লাগাবো।

আজকে আমি এই আর্টিকেলটিতে আপনাদেরকে বিভিন্ন সিস্টেম সম্পর্কে ধারণা দিব যা তৈরি করে আপনারা রিয়েল লাইফ প্রজেক্ট এর একটি ভালো ধারণা পাবেন কারণ আমি এই আর্টিকেলে যে প্রজেক্টগুলো প্র্যাকটিস করার কথা বলব সেগুলো আমাদের প্রতিনিয়ত কোন না কোন কাজে লাগে এবং ক্লায়েন্টের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ এই প্রজেক্টগুলো থেকে নিয়ে তৈরি করা হয় একটি বড় প্রজেক্ট বা কাস্টম প্রজেক্ট।

 

সিএমএস ওয়েবসাইট:

সিএমএস হচ্ছে কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যা আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্ট এবং ডিজাইন কে কন্ট্রোল এবং ম্যানেজ করতে সাহায্য করবে কোন প্রকার কোডিং জ্ঞান ছাড়া। সহজ এই পদ্ধতি দ্বারা আপনি আপনার ওয়েবসাইটের টেক্সট, ইমেজ, ভিডিও এড করা অথবা ডিলিট করা এবং ওয়েবসাইট ডিজাইন এডিট, আপডেট করার কাজও করতে পারবেন কোন প্রকার কোড না লিখে।

এরকম একটি কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেস, ওয়ার্ডপ্রেস বর্তমানে সবথেকে পপুলার একটি কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যা দ্বারা আপনি আপনার ওয়েবসাইটের ৭০-৯০% ডিজাইন করে ফেলতে পারবেন কোন প্রকার কোড না লিখে এবং এর রিচ ফিচার গুলো আপনার কাজকে খুব সহজ এবং দ্রুততম করে তুলবে।

কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরি করা কোন কঠিন কাজ নয় কারণ আপনি যদি আমার আগের আর্টিকেলগুলো সবকিছু প্র্যাকটিস করে শিখে থাকেন তাহলে কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরি করা শুধু সময়ের কাজ। কিন্তু কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরি করলে আপনি খুব সহজেই বড় বড় কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এর ব্যাপারগুলো অনুধাবন করতে পারবেন যা আপনার প্রফেশনাল কাজে অনেক লজিক ডেভেলপে সাহায্য করবে।

 

এইচ-আর ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম:

এইচ-আর ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম হচ্ছে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, যারা বিবিএ নিয়ে পড়াশোনা করছেন তারা হয়তোবা অবশ্যই জানেন যে এই এইচ-আর ব্যাপারটা কি। এইচ-আর সফটওয়্যার দিয়ে আপনার কোম্পানির এমপ্লয়ীদের কন্ট্রোল করা, পেরোল, রিক্রুটিং, তাদেরকে ট্রেনিং দেওয়া এবং তাদের কাজের পারফরম্যান্স এনালাইজ করার একটি সিস্টেম। এছাড়াও এই সিস্টেমে আরো অনেক কিছু থাকে যা আপনার একটি কোম্পানির অনেক অনেক কাজকে খুব সহজ এবং দ্রুততম করে তুলে।

যদি আপনি এই ধরনের একটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরি করে থাকেন তাহলে আপনি যে কোন ধরনের কাস্টম প্রজেক্ট তৈরি করতে সক্ষম হবেন কারণ এখানে সকল প্রকার অভিজ্ঞতা এবং বুদ্ধি ব্যবহার করে আপনাকে সিস্টেমটি তৈরি করতে হবে এবং যদি আপনি এই ধরনের কোন সিস্টেম তৈরি করে থাকেন তাহলে বিভিন্ন বড় বড় ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানির সাথে কাজ করতে পারবেন তাতে করে আপনি অনেক বড় বড় কাজ ও পাবেন।

যদি আপনি ভালো মানের এইচআর ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরি করতে পারেন তাহলে আপনি ওই এইটার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম টি কোম্পানি অরগানাইজেশন এর কাছে বিক্রি করতে পারবেন।

 

ই-কমার্স ফাংশনালিটি ডেভলপমেন্ট:

বর্তমান যুগে ইকমার্স অনেক পরিচিত একটি নাম। এর অর্থ হচ্ছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনি যখন কোন সার্ভিস অথবা প্রডাক্ট কেনাবেচা করবেন তখন ই-কমার্স বলা হয়। সাধারণত আমরা অনেক ইকমার্স ওয়েবসাইট এর নাম জানি যেমনঃ amazon.com, alibaba.com তারপর daraz.com ইত্যাদি। এই সকল ওয়েবসাইটে আপনি বিভিন্ন সার্ভিস অথবা প্রোডাক্ট বিক্রি করতে পারবেন এবং কিনতে পারবেন।

যদি আপনি ইকমার্স ফাংশনালিটি ডেভেলপ করেন তাহলে আপনার গাণিতিক লজিক গুলো ডেভলপ হবে এবং এখন প্রতিটি ওয়েবসাইটে কোন না কোন ভাবে ই-কমার্স জড়িত তাই আপনি যদি ইকমার্স সম্পর্কে ধারণা রাখেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইটে আপনি ইকমার্স ডেভলপ করে বিভিন্ন সার্ভিসের জন্য আয় করতে পারবেন যা সরাসরি আপনার ব্যাংকে সাথে সংযুক্ত থাকবে।

ই-কমার্স ফাংশন ডেভলপ করলে আপনি গাণিতিক ধারণাগুলো পরিষ্কার হবে, ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে ধারণা হবে এবং বিভিন্ন পেমেন্ট গেটওয়ে দিয়ে কিভাবে ওয়েবসাইটের কাস্টমারদের কাছ থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে টাকা নেওয়া যায় তা বুঝতে পারবেন। তাই আমি বলব ইকমার্স ফাংশনালিটি ডেভলপ করতে পারলে আপনার পিএইচপির অনেক ধরনের জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে।

সামনের পর্বে পিএইচপি শেষ পর্ব লিখবো যেখানে আপনার একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কাজের জন্য যেসকল রিচ ফিচারগুলো পিএইচপি ডেভলপাররা ব্যবহার করে এবং কোনটি কখন শিখতে হবে তার ধারণা দিব যাতে করে ফ্রিল্যান্সিং অথবা জব ক্যারিয়ারে আপনি পিএইচপি দিয়ে প্রফেশনালি কাজ করতে পারেন।

No Comments

Post A Comment

name:

phone:

email:

skype:

address:

Interested course: